নিজস্ব প্রতিবেদক :
হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির প্রতিবাদ এবং সংগঠনের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে গোপালগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) গোপালগঞ্জ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের জেলা কার্যালয়ে হেযবুত তওহীদ, গোপালগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেযবুত তওহীদের বরিশাল বিভাগীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আরিফ মোহাম্মদ আলী আহসান। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিভাগ হেযবুত তওহীদের সভাপতি মো. শফিকুল আলম উখবা, গোপালগঞ্জ সদর থানা সভাপতি মো. মামুন মোল্লাসহ সংগঠনের নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে আয়োজিত একটি সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক, কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা বক্তব্য দেওয়া হয়। সেখানে সংগঠনটির ইমাম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক ও অগণতান্ত্রিক বক্তব্যের পাশাপাশি তাদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে দেশ থেকে উৎখাতের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, শুধু নোয়াখালী নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন হাট-বাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসায় হ্যান্ডবিল বিতরণের পাশাপাশি সভা-সমাবেশ, মসজিদের মিম্বার, জুমার খুতবা ও ওয়াজের মাধ্যমে সংগঠনটির বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ পরিস্থিতিতে হেযবুত তওহীদের নেতা-কর্মীদের জানমাল, বাড়িঘর, কার্যালয়, স্থাপনা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা বলেন, এ ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধ না হলে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনৈতিক ও সংস্কারমূলক আন্দোলন। আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে মামলা ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডে তাদের কোনো সদস্য আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হননি।
সংবাদ সম্মেলনে উসকানি ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ ব্যবহার করে উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধ, হেযবুত তওহীদের কার্যালয়, সদস্যদের পরিবার ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে সংগঠনের নেতারা তাদের মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার পাশাপাশি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের উগ্রবাদ, মব সহিংসতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
Leave a Reply