রাজিয়া সুলতানা :
গোপালগঞ্জ জেলাজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলা—গোপালগঞ্জ সদর, মুকসুদপুর, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া ও কাশিয়ানী—জুড়ে দিন-রাত ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তারা। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে চার্জার লাইট বা কেরোসিনের বাতির আলোতে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনই কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যায়, যা শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় একটানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, জেলার ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলেও প্রায় প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে।
এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইনভিত্তিক পেশায় যুক্ত তরুণরা নিয়মিত কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, জাতীয় গ্রিডে চাপ, উৎপাদন ঘাটতি এবং স্থানীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পুরনো ট্রান্সফর্মার ও অবকাঠামোগত সমস্যাকেও ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
Leave a Reply