শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গোপালগঞ্জ অগ্নিবীণা শিল্প ও সাহিত্য সংসদের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা জি.এম, সম্পাদক কাজী শরিফুজ্জামান গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুব আলী খানের জানাজা সম্পন্ন টুঙ্গিপাড়ায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৫ কাশিয়ানী রেলস্টেশন থেকে মনির শেখ (২৪) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার মারা গেলেন নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব শুভ ১১তম জন্মদিন নুসরাত জাহান মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত জনি, দেশে ফিরেও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মুকসুদপুরে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৩ জন নিহত আহত ৩০ মুকসুদপুরে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৩ জন নিহত আহত ৩০ গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনের উদ্বোধন

ফ্যাটি লিভার: নীরব মহামারি, ঝুঁকিতে বাংলাদেশের মানুষ

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৮.৩৮ এএম
  • ৩০১ Time View

১১ জুন বিশ্ব ফ্যাটি লিভার দিবস। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা লিভার রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। বাংলাদেশেও এটি নীরব মহামারির রূপ নিচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো— অনেক রোগী বুঝতেই পারেন না যে তাদের লিভারে চর্বি জমছে, কারণ শুরুতে তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না।
বাংলাদেশের নগরজীবন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, রাত জাগা এবং শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ার ফলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আগে ধারণা করা হতো শুধু স্থূল বা ডায়াবেটিস রোগীরাই আক্রান্ত হন। কিন্তু এখন “লিন ফ্যাটি লিভার” বা স্বাভাবিক ওজনের মানুষের মধ্যেও এই রোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে জেনেটিক কারণ ও পেটের অভ্যন্তরীণ চর্বি জমার প্রবণতার কারণে বাংলাদেশিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে।
ফ্যাটি লিভার কেবল লিভারের রোগ নয়। এটি হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ফ্যাটি লিভার আছে তাদের হৃদ্‌রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি। একইভাবে দীর্ঘমেয়াদে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।
নারীদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) থাকলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে অনেক তরুণী অল্প বয়সেই আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে শিশুদের মধ্যেও স্থূলতা ও মোবাইল-নির্ভর জীবনযাত্রার কারণে ফ্যাটি লিভার বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে সিরোসিস পর্যন্ত গড়াতে পারে।
ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন। নিয়মিত হাঁটা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত চিনি পরিহার এবং পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা PCOS আছে, তাদের নিয়মিত লিভার পরীক্ষা করা উচিত।
বিশ্ব ফ্যাটি লিভার দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক— সুস্থ জীবনযাপন ও সচেতনতার মাধ্যমে এই নীরব ঘাতককে প্রতিরোধ করা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bartamangopalganj_16011
© All rights reserved © 2025
error: Content is protected !!