রাজিয়া সুলতানাঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ ও হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জে জারি করা কারফিউ চলছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই কারফিউ বলবৎ থাকবে। এর আগে গোপালগঞ্জ সদরে বুধবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টা থেকে কারফিউ জারি করে জেলা প্রশাসন।
তবে আজ সকালে কারফিউয়ের মধ্যেও সড়কে সড়কে দেখা গেছে মানুষের উপস্থিতি। অফিসগামী মানুষ ছাড়া তেমন কেউ ঘর থেকে বের হয়নি। সংখ্যায় কম হলেও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া এসব মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে ছুটছেন। রাস্তায় গাড়ি চলছে কয়েকটা। শহরের মোড়ে মোড়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবি টহল দিচ্ছে।
কারফিউর কারণে গোপালগঞ্জে আজকের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা ঘিরে গতকাল দিনভর দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন। হামলাকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে ৪ জন নিহত এবং অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এরপর বিকালে জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে।
সকাল ৮টার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরা শহরের ঘোনাপাড়া, এলজিইডি মোড়, গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল, কোট চত্বর, লঞ্চঘাট, কাঁচাবাজার ও পুলিশ লাইনস মোড়ে টহল দিতে দেখা গেছে। পড়ে থাকা ইটপাটকেল, বাঁশসহ নানা প্রতিবন্ধক সামগ্রী সড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। তবে ভোর থেকেই ঘোনাপাড়া মোড়ে ইজিবাইক মাহিন্দ্রা ও ভ্যান চলতে দেখা গেছে। কম হলেও বিভিন্ন গন্তব্যে এসব যানবাহন চলাচল করছে। স্থানীয় বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলো কারফিউয়ের কারণে বন্ধ রয়েছে।
শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে বিভিন্ন মোড়ে চায়ের দোকান ও রেস্তোরাঁ খোলা হয়েছে। সেখানে মানুষের জটলা দেখা যায়। কাঁচা বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে বেশ কিছু ফলের দোকানে লোকজন ছিলেন।
এদিকে কারফিউয়ের কারণে স্থানীয়ভাবে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ঢাকাসহ দূরপাল্লার যানবাহন চলছে স্বাভাবিকভাবেই।’
Leave a Reply