রাজিয়া সুলতানাঃ
গোপালগঞ্জ জেলায় কারফিউ শিথিলের পর রোববার সকাল থেকে ফের ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এ আদেশ বলবৎ থাকবে সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এই সময়কালে জেলার যেকোনো স্থানে সভা, মিছিল বা জনসমাবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে পরীক্ষার্থী, শিক্ষার্থী, সরকারি অফিস এবং জরুরি পরিষেবাগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন।
শনিবার রাতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ সালের ১৪৪ ধারায় নতুন করে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ বলবৎ থাকবে সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
এদিকে গোপালগঞ্জের ঘটনায় চার মামলায় আসামী হয়েছে তিন হাজার আর গ্রেফতার হয়েছেন ৩শ’র বেশি। গ্রেফতার আতঙ্ক রয়েছে জেলা জুড়ে। এ কারনে খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে বিপাকে পড়েছে সাধারন মানুষ। দিন এনে দিন খাওয়া কর্মজীবীরা পরেছে সবচেয়ে বিপদে। জেলা জুড়ে চলছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সারাশী অভিযান। প্রতিদিন গ্রেফতার হচ্ছে শত শত লোক। রাতে কারফিউ দিনে ১৪৪ ধারা জারি করছে প্রশাসন। এতে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে গোপালগঞ্জে।
গণ গ্রেফতারে প্রতিদিন থানা ও কোর্ট চত্বরে ভীড় করছে স্বজনরা। গ্রেফতারকৃত কারো সন্তান বা কারো স্বামী, বা পিতাকে গোপালগঞ্জ কারাগারে খুজে পাচ্ছেন না তারা।দেখা যায় তাদের কান্নার আহাজারি। যানাজায় গোপালগঞ্জ কারাগারে গ্রেফতারের চেয়ে ধারন ক্ষমতা কম থাকায় তাদের পার্শবর্তী বাগেরহাট ও পিরোজপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে ১০০ জনকে।
কারফিউ জারির প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হয় গত বুধবারের সহিংসতার ঘটনা। এনসিপির একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কর্মীদের হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোপালগঞ্জ। ৫ ঘণ্টার ওই সংঘর্ষে নিহত হন অন্তত ৫জন, আহত হন অনেকে।
এ পরিস্থিতিতে প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন, পরে তা রূপ নেয় পূর্ণ কারফিউতে। কয়েক দফায় কারফিউ শিথিল ও বাড়ানো হয়। সর্বশেষ শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিথিল ছিল কারফিউ, এরপর তা তুলে নিয়ে ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়।
Leave a Reply