রাজিয়া সুলতানা:
বাংলায় প্রবাদ আছে “ঘোলা পানিতে মাছ ধরা” অর্থাৎ সুযোগ বুঝে কাজ করা। গোপালগঞ্জে সম্প্রতি ১৬ জুলাই এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরে যে রণক্ষেত্র ঘটনা ঘটেছিলো এতে ৫ জন নিহত ও অসংখ্য মানুষ আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ১৬ টি মামলা করেছে। ১৬ মামলায় আসামী হয়েছে ১৭ হাজারেরও বেশি। এসব আসামী ধরতে পুলিশ যখন ব্যাস্ত সময় পার করছে ঠিক তখনই গোপালগঞ্জ সহ আশপাশের জেলা থেকে আগত চোর ও ছিনতাইকারীদের উৎপাত বেড়ে গেছে। চোর ও ছিনতাইকারীরা বুঝে গেছে যে পুলিশ আসামী ধরতে ব্যাস্ত সময় পার করছে তাই তারা এর সুযোগ নিচ্ছে। প্রতিনিয়ত দিনে বা রাতে যখন তখন কোথাও না কোথাও হানা দিচ্ছে। শহরের প্রতিটি মহল্লায় চোর ছিনতাই বেড়ে গেছে। এমন ঘটনা ঘটছে শহরের নবীনবাগ, মিয়াবাড়ি, বেদগ্রাম, ঘোষেরচর, মান্দারতলা, পাঁচুড়িয়া, সোনাকুড় সহ বিভিন্ন এলাকায়।
সম্প্রতি গোপালগঞ্জ শহরের মিয়াবাড়ি এলাকার সুবহান মিয়া জানান, সকাল ১০টার সময় একটি এ্যাপাসি মোটরসাইকেল নিয়ে দুইজন লোক আমার স্ত্রীর কাছে পানি খাওয়ার অযুহাতে তার গলার চেইন ছিনতাই করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাবেক নাযির জাকির শহরের নবীনবাগ এলাকার বাসিন্দা। তার বাসায় দুই মাসে তিনবার চুরি হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ জানায় বাসায় সিসি ক্যামেরা থাকলে চোর সনাক্ত করা সম্ভব। তা না হলে আমরা বিষটি তদন্ত করে দেখবো।
এছাড়া একই এলাকার জামান সাহেবের বাসায়ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। জামান সাহেব জানান, এলাকায় একটি কিশোর গ্যাং অবস্থান করছে। গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকে। দিনে বিভিন্ন সময় শ্রমিকের কাজ করে, রাতে অপরাধে জড়িয়ে পরে। সম্প্রতি প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জে জানালা ভেঙে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।
বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ জানান, দ্রুত আমরা চুরি ছিনতাই কাজে জড়িতদের সনাক্ত করতে সক্ষম হব।
Leave a Reply