শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মুকসুদপুর ও কোটালীপাড়ায় টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদন্ড কাশিয়ানীতে শিশু অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন নড়াইলে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার গোপালগঞ্জে নজরুল বর্ষ উদযাপন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত ইফা কর্মকর্তা কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ নড়াইলের পানিপাড়ায় দেশের প্রথম ভাসমান গলফ ড্রাইভিং রেঞ্জ নির্মাণের কাজ শুরু আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গোপালগঞ্জে কোনো মিছিল-সমাবেশ হয়নি, গ্রেফতার ৬ গোপালগঞ্জে শান্তি-শৃঙ্খলা উন্নয়নে যুবদের ভূমিকা বিষয়ক জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

ফুটবল ম্যাচ শেষে তুমুল সংঘর্ষে গোপিপ্রবি রণক্ষেত্র

  • Update Time : রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১১.৩১ এএম
  • ২৮১ Time View
শেখ ফরিদ আহমেদ :
গত শুক্রবার গোপালগঞ্জ সরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে লোকপ্রশাসন ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচ শেষে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়টি রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। ভয়ে আতংকে সাধারন শিক্ষার্থী, শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দিকবিদিক শুন্য হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে। সংঘর্ষে রেফারীসহ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে এবং ৫০০ বেড বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গোবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর ড.হোসেন উদ্দিন শেখর তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি। তিনি গত শুক্রবার  সংঘর্ষের পর থেকে গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত  সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলেছেন বলে জানা গেছে।
লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টে লোক প্রশাসন বনাম ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এর মধ্যকার ম্যাচে পক্ষপাতমূলক রেফারিং, খেলা শেষ হওয়ার আগেই (সময় থাকা স্বত্ত্বেও) শেষ বাঁশি দিয়ে দেওয়া,  ডিবক্সের মধ্যে ক্লিয়ার হ্যান্ডবলের দাবী সত্ত্বেও  পেনাল্টি না দেওয়াসহ অন্যান্য কারনে দর্শকরা রেফারির উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন বিভাগের দর্শকরা ক্ষুব্ধ হয়ে রেফারির প্রতি ধেয়ে যায়। এক পর্যায়ে হামলা চালায়। পরবর্তীতে রেফারিকে একটি এম্বুলেন্সে তুলে দেয়া হয়। হামলায় ইতিহাস বিভাগের সাজ্জাদ, তিমন এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের রকিবসহ আরও বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট এর বেশ কিছু শিক্ষার্থীসহ লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি ড. বিতান খানম, শিক্ষক নাছির উদ্দিন, হাশেম রেজা  এবং এএসভিএম বিভাগের সভাপতি সৌরভ গুরুতর আহত হন। এছাড়াও লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক কামরুন্নাহার ঝর্ণাকে কতিপয় শিক্ষার্থী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। হামলাকারীরা সেন্ট্রাল ফুটবল টিম ক্রিড়া ইন্সট্রাকটর বাবুল মন্ডলের যোগ সাজশে পরিকল্পিত ভাবে আক্রমণ করে।
এদিকে গোবিপ্রবি সেন্ট্রাল ফুটবল টীমের সদস্যরা হামলার ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলন শেষে  প্রক্টর বরাবর একটি আবেদন করেছেন। আবেদন মোতাবেক জানা গেছে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকে অশোভন আচরন করেছেন। ওই ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকরাই বিভিন্ন ম্যাচের আগে প্লেয়ার ও নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের অসভ্য আচরন করতে উৎসাহিত করেছেন। খেলায় রেফারির সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত। রেফারির দায়িত্ব যারা পালন করেছেন তারা যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু ম্যাচ শেষে তারা পরিকল্পিত ভাবে রেফারির উপর বর্বরভাবে আক্রমণ করেন। লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষকরা তাদের আক্রমনে উৎসাহ দিয়েছেন। সেন্ট্রাল টীমের ভলান্টিয়াররা হামলা চলাকালে রেফারিকে সাহায্য করতে গেলে তাদের উপরেও বর্বর হামলা চালানো হয়।  হামলার ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে তারা জানান। হামলায় যে সকল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা জড়িত তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যাবস্থা করতে হবে। লোকপ্রশাসন বিভাগের সকল ব্যাচ আগামী ৫ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ধরনের খেলায় অংশ নিতে পারবে না।  তারা অংশ নিলে বাকি সকল ডিপার্টমেন্ট ও সেন্ট্রাল টীম সকল ধরনের খেলা বর্জন করবে।
হামলা চলাকালীন সময়ে উভয় পক্ষকে সংঘর্ষ থেকে নিবৃত্ত রাখতে সচেষ্ট থাকা পরিবহন প্রশাসক হাসান রাজার সাথে মোবাইল ফোনে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে বা ঘটনার বর্ননা দিতে পারছিনা। আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেয়ার ব্যাপারে।
ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক কামরুন নাহার ঝর্না বলেন, হামলায় কতিপয় শিক্ষক,শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আমাকে এবং অন্যান্য শিক্ষকদের গালিগালাজ করা হয়েছে। লাঞ্চিত করা হয়েছে। তবে এসব আমার অফিশিয়াল বিবৃতি নয়। আমার বক্তব্য প্রকাশ করবেননা।  করলে আমি স্টেপ নেবো। হয়তো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তাদের সাথে আলাপ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমার বিবৃতি ভাইরাল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা সাংবাদিকরা। এটা আমাদের আভ্যন্তরীন ব্যাপার।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড.ইষিতা রায় বলেন,আমি ক্লাস নিতে ব্যাস্ত। পরে যোগাযোগ করেন।
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে কেউ কিছু জানাতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। গোবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর,প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এবং রেজিস্ট্রারের মোবাইল নাম্বার ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
উল্লেখ্য অনুষ্ঠিত ওই সেমিফাইনালে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ ২-১ গোলে জয়ী হয়েছে লোক প্রশাসন বিভাগের বিরুদ্ধে বলে সূত্র থেকে জানানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bartamangopalganj_16011
© All rights reserved © 2025
error: Content is protected !!