এস এম সাজ্জাদ হোসেন:
গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে তৃণমূলের তীব্র অসন্তোষ ও পুনর্বিবেচনার দাবিতে বৃহস্পতিবার এক নজিরবিহীন গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশী পাঁচ শীর্ষ নেতার নেতৃত্বে হাজারো নেতাকর্মীর শ্লোগানে পুরো শহর সরব হয়ে ওঠে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই এ কর্মসূচি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর ও কাশিয়ানির আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. কে এম বাবর। তবে তৃণমূলে ক্ষোভ—এই মনোনয়ন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যা বিজয়ের সম্ভাবনাকে দুর্বল করতে পারে।
মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা ও তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার প্রচারে নেতাদের এই গণসংযোগ সকাল ১১টায় সড়ক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়।
এই শক্তিশালী কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন—
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এফ-ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর,সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি এম এইচ খান মঞ্জু,সাবেক সভাপতি এম সিরাজুল ইসলাম,কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুর রহমান তাজ,বিএনপি নেতা সরদার নুরুজ্জামান।
এছাড়া জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের হাজারো নেতাকর্মী বিশাল মিছিল নিয়ে গণসংযোগে অংশ নেন। ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দিতে দিতে তারা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করলে এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
গণসংযোগে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা স্পষ্টভাবে জানান—গোপালগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান মনোনয়ন তৃণমূলের প্রত্যাশা পূরণ করেনি।
তাদের মতে, জনগণের আস্থা ও ভোটযুদ্ধের বাস্তবতা বিবেচনায় আরও গ্রহণযোগ্য ও পরীক্ষিত নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এ আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হতো।
সাবেক সংসদ সদস্য এম এইচ খান মঞ্জু বলেন
“আমরা বছরের পর বছর হামলা-মামলায় জর্জরিত থেকেও দলকে ধরে রেখেছি। আমাদের ত্যাগ, পরিশ্রম ও সংগঠনকে বিবেচনা না করে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দলকে জেতাতে হলে মনোনয়ন অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন—“তারেক রহমান বিদেশে থাকায় বাস্তব পরিস্থিতি সঠিকভাবে জানতে পারেননি। আমরা আশা করি তিনি খুব দ্রুত এই সিদ্ধান্ত সংশোধন করবেন।”
গণসংযোগে নেতারা সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা তুলে ধরেন। তারা বলেন—“গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতেই বিএনপির নির্বাচন যুদ্ধ।”
ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
‘কেন্দ্রে বার্তা পৌঁছে গেল’—তৃণমূলের আশা
গণসংযোগে অংশ নেওয়া কর্মীরা বলেন—
“আমাদের এই ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দলের হাইকমান্ডের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। এখন তারা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আমরা আশাবাদী।”
Leave a Reply