রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে নিম্নমানের ট্রেন চালুর খবরে ক্ষোভ: এসি ও চেয়ার কোচসহ আধুনিক ট্রেনের গণদাবি গোপালগঞ্জে অব্যাহত লোডশেডিং: জনজীবন বিপর্যস্ত, বিপাকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা গোপালগঞ্জে ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে কাশিয়ানীর একাধিক মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানার আসামী মামুন ভূঁইয়ার দৌরাত্ম্য নিয়ে নানা প্রশ্ন গোপালগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে জব ফেয়ার উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জে ছেলের ধাক্কায় বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যু গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ক্লাবের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: সভাপতি মোস্তফা জামান, সম্পাদক রহমান মাহামুদ গোপালগঞ্জকে মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত করার আহ্বান জানালেন এমপি ডা. কে এম বাবর গোপালগঞ্জে চৈত্র শেষে কুয়াশার চাদর কালিয়ায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে নিম্নমানের ট্রেন চালুর খবরে ক্ষোভ: এসি ও চেয়ার কোচসহ আধুনিক ট্রেনের গণদাবি

  • Update Time : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১.২০ পিএম
  • ১৮০ Time View

গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে নিম্নমানের ট্রেন চালুর খবরে ক্ষোভ: এসি ও চেয়ার কোচসহ আধুনিক ট্রেনের গণদাবি

​নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ | ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

​দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা রুটে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন ট্রেন চালুর খবরে আনন্দের বদলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত ট্রেনের মান, বগি বিন্যাস এবং সময়সূচী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল। স্থানীয়দের মতে, এই সার্ভিসটি আশীর্বাদের চেয়ে ভোগান্তি বেশি বয়ে আনবে।

​রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ট্রেনটি গোপালগঞ্জ থেকে রাত ৮টায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাবে রাত ১২টায়। আবার পরদিন বিকেল ৩:৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে রাত ৭:৩০ মিনিটে গোপালগঞ্জ পৌঁছাবে।

​সচেতন মহলের আশঙ্কা, পথিমধ্যে ট্রেন বিলম্বের কারণে গোপালগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটি ঢাকা পৌঁছাতে রাত ১টা বা ২টা বেজে যেতে পারে। এত গভীর রাতে ঢাকা পৌঁছানো সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য চরম অনিরাপদ। গোপালগঞ্জ  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, গভীর রাতে ঢাকা পৌঁছালে পরবর্তী গন্তব্যে বা উত্তরবঙ্গের অন্য রুটে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না, যা তাদের জন্য চরম বিড়ম্বনার।

​ট্রেনটির সবচেয়ে নেতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে এর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাকে। জানা গেছে, এই ট্রেনে কোনো এসি (AC) বা আরামদায়ক চেয়ার কোচ নেই। এর পরিবর্তে বসার জন্য রাখা হয়েছে সাধারণ কাঠের বা স্টিলের বেঞ্চ।

​যাত্রীদের অভিযোগ মোংলা, খুলনা ও বেনাপোল রুটে একাধিক ভিআইপি আন্তঃনগর ট্রেন থাকলেও গোপালগঞ্জ রুটে ‘লোকাল’ মানের ট্রেন দিয়ে বৈষম্য করা হচ্ছে।

​দীর্ঘ পথের যাত্রায় আরামদায়ক বগি না থাকায় সাধারণ মানুষকে দাঁড়িয়ে বা গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হবে।

​আধুনিক রেল যুগে এ ধরনের লক্কড়-ঝক্কড় সার্ভিসকে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য “অপমানজনক” বলে অভিহিত করেছেন স্থানীয়রা।

​”আমরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছি একটি উন্নত ট্রেন সার্ভিসের জন্য। কিন্তু এখন যা দেওয়া হচ্ছে, তাতে আমাদের সময়ের সাশ্রয় হবে না, বরং ভোগান্তি বাড়বে। আমরা চাই নিরাপদ ও আরামদায়ক আধুনিক ট্রেন।” — রেলমন্ত্রী ও গোপালগঞ্জের  সংসদ সদস্যদের কাছে গণদাবি গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর, নড়াইল, বাগেরহাট এবং ফরিদপুরসহ দক্ষিণবঙ্গের বিশাল একটি অংশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবিগুলো হলো:​মানসম্মত কোচ: সাধারণ বেঞ্চের পরিবর্তে আধুনিক শোভন চেয়ার ও এসি (AC) বগি যুক্ত করা।

​উপযুক্ত সময়সূচী: কর্মজীবী ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে অফিস টাইমে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা।

​গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং মাননীয় রেলমন্ত্রী দ্রুত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও বৈষম্যহীন রূপ দিতে অবিলম্বে আন্তঃনগর মানের ট্রেন চালুর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় এই রুটে যাত্রী সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে আসার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bartamangopalganj_16011
© All rights reserved © 2025
error: Content is protected !!