মোঃ লিটন সিকদার :
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবে পর্যটক, দর্শনার্থী ও গলফপ্রেমীদের জন্য নির্মিত নতুন আবাসন সুবিধা ‘দ্বীপকুঞ্জ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আস্থা ও নেতৃত্ব বিকাশের বার্তা তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী দুই শিশু—আয়াত ইমরান শিযা ও আয়রা ইমরান সিহার হাতেই উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইরফান আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা, ট্যুরিজম রিসোর্টস পার্কস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্রিয়াব)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জেসিআই-এর সাবেক আন্তর্জাতিক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য খবির উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে রিসোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্ষুদে গলফার, স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, দেশি-বিদেশি অতিথি ও পর্যটকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুরাদ হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিশুদের মধ্যেই আগামী দিনের নেতৃত্বের সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। সেই বিশ্বাস থেকেই উদ্বোধনের দায়িত্ব ক্ষুদে দুই শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, পর্যটকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আবাসন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রকৃতিনির্ভর পরিবেশ নিশ্চিত করতে অরুনিমা রিসোর্টে ধারাবাহিকভাবে নতুন অবকাঠামো যুক্ত করা হচ্ছে, যার অন্যতম সংযোজন ‘দ্বীপকুঞ্জ’।
সভাপতির বক্তব্যে সিইও ইরফান আহমেদ বলেন, শুধু আবাসন নয়, প্রকৃতির সান্নিধ্যে একটি স্মরণীয় অবকাশযাপনের অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। পরিবার, বন্ধু ও করপোরেট অতিথিদের জন্য রিসোর্টকে আরও সমৃদ্ধ করতে নিয়মিত নতুন নতুন সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের আরেকটি আকর্ষণ ছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত অতিথিদের জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ সংস্কৃতির বিশেষ আয়োজন। সাপ ও বেজির খেলাসহ লোকজ পরিবেশনা উপভোগ করে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। উদ্বোধন শেষে অতিথিরা ‘দ্বীপকুঞ্জ’ পরিদর্শন করে এর নান্দনিক স্থাপত্য, মনোরম পরিবেশ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করেন।
আয়োজকদের মতে, ক্ষুদে শিশুদের হাতে উদ্বোধনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আস্থা প্রকাশের পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Leave a Reply