মোঃ লিটন সিকদার
নড়াইলে সংঘটিত একটি আলোচিত ডাকাতি মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। টানা তিন দিনের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন ডাকাত চক্রের সদস্য এবং একজন লুণ্ঠিত স্বর্ণের ক্রেতা। অভিযানে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া গলিত স্বর্ণও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুন ২০২৬ দিবাগত রাতে নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের পাখিমারা (মধ্যপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা সালাহ উদ্দীন খাঁনের বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত প্রবেশ করে। তারা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সালাহ উদ্দীন খাঁন নড়াগাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে নড়াইলের পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)-এর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সিসিআইসি এবং নড়াগাতী থানার একাধিক দল যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।
গত ২ থেকে ৪ জুলাই নড়াইল, খুলনা ও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্য এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণ কেনার অভিযোগে একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— জাকির মোল্লা ওরফে জেকের আলী (৪৮), জাকির হোসেন তালুকদার ওরফে কাটাপ্পা (৫৪), পারভেজ মৃধা ওরফে দারোগা (৩৬), মফিজ খাঁ (৩৮), দীন ইসলাম মোল্লা (৪২) এবং স্বর্ণকার সরজিৎ কর (৪৫)।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা পাখিমারা গ্রামের ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মনাম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেফতার কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও চুরির একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে ডাকাত চক্রের পলাতক সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a Reply