এস এম সাজ্জাদ হোসেন:
গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো। আজ শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের স্বচ্ছতা সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ পরিবারের হাতে মোট ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। মানবিক আবহে পুরো অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে আবেগঘন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম তারেক সুলতান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফারিয়া তানজিম, এবং বিআরটিএ গোপালগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) লায়লাতুল মাওয়া।
অনুষ্ঠানে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিপুলসংখ্যক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দৈনিক বর্তমান গোপালগঞ্জ-এর সম্পাদক ও বৈশাখী টেলিভিশন প্রতিনিধি মোঃ মোস্তফা জামান।
তিনি বলেন—“গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়মিতভাবে বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ এশিয়ান হাইওয়ে–সংলগ্ন সড়কের বিভিন্ন ত্রুটি ও প্রতিবন্ধকতা। দ্রুত এসব ত্রুটি চিহ্নিত করে সংস্কার করা জরুরি। পাশাপাশি সড়কের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো অপসারণ করলে দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।”
তিনি আরও মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন—“বিআরটিএ এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় চলছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি রয়েছে। প্রশিক্ষণ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ আর নেই এবং এ ব্যাপারে ৩০ নভেম্বর থেকে ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে ডোপ টেস্ট ও চোখের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন “ক্ষতিগ্রস্তরা অনুদান নয়, তাদের ন্যায্য অধিকারই পাচ্ছেন। ৩০ দিনের মধ্যেই ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান বলেন
“সড়কে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও সচেতনতা বাড়াতে পারলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। আইনের প্রতি সবাইকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, গোপালগঞ্জ জেলাধীন সকল সড়ক সমূহ কে দূর্ঘটনা ঝূঁকিমুক্ত রাখতে চালক, যাত্রী, পথচারী সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্ববান ও সচেতন নাগরিক হতে হবে।”
অনুষ্ঠানের শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক তুলে দেওয়া হয়। স্বর্ণকলি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষয়িত্রী শাহানার পারভীন সঞ্চালিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিপুল সংখ্যক অতিথি।
Leave a Reply