শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জ জেলার বৃহত্তম সংসদীয় আসন ২১৫ (গোপালগঞ্জ-১)। মুকসুদপুর পৌরসভা ও এর সবকটি ইউনিয়ন এবং কাশিয়ানী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে বর্তমানে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে এবারের নির্বাচনে গতানুগতিক ধারার চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন মেরুকরণ।
একনজরে নির্বাচনী পরিসংখ্যান
মোট ভোটার: ৩,৯৯,৫১০ জন (মুকসুদপুর: ২,৭৩,৫৬২; কাশিয়ানী: ১,২৫,৯৪৮)।
ভোট কেন্দ্র: ১৩৮টি (মুকসুদপুর ৯৬, কাশিয়ানী ৪২)।
ভোট কক্ষ: মোট ৮২০টি স্থায়ী ও ৩৬টি অস্থায়ী।
বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভোটের সমীকরণ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় দলটির বিশাল ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রার্থীরা। আলোচনায় যারা রয়েছেন স্বতন্ত্র ও পারিবারিক লড়াই: সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম খায়রুল বাকী মিয়ার দুই ছেলে আশরাফুল আলম শিমুল ও নাজমুল আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। শিমুল বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার ভাই নাজমুল প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাবেক সংসদ সদস্য ফারুক খানের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাব ফেলছে। সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমানে গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী কাবির মিয়া কারাগার থেকেই নির্বাচনে লড়ছেন। অতীতে প্রভাবশালী এই নেতার অবস্থান নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান মোল্লা দলীয় টিকিটে লড়ছেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি বেশ তৎপর থাকলেও স্থানীয়ভাবে কিছু বির্তকের কারণে তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. আনিসুল ইসলাম (ভুলু মিয়া)। বির্তকমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। সচেতন ভোটারদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত মানুষ বির্তকিতদের চেয়ে ‘ক্লিন ইমেজ’ সম্পন্ন প্রার্থীকেই বেছে নিতে পারে।
মাঠে আরও রয়েছেন মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ মোল্লা (জামায়াত), সুলতান জামান খান (জাপা), মো. জাকির হোসেন (জনতার দল), মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন), প্রিন্স আল আমিন (এবি পার্টি), ইমরান হোসেন আফসারি (খেলাফত মজলিস), নিরদ বরণ মজুমদার (সিপিবি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইয়ুম আলী খান। ভোটের সমীকরন প্রতি পলে পলে বদলে যাওয়া ইমেজ তৈরি ও ধরে রাখতে সকল প্রার্থীই তৎপর দৌড় ঝাঁপ প্রতিযোগিতায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের ভোটাররা এবার শুধু দলীয় প্রতীকে নয়, বরং প্রার্থীর চারিত্রিক স্বচ্ছতা ও অতীতের ভূমিকার ওপর ভিত্তি করেই রায় দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন।
Leave a Reply