শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ:
গোপালগঞ্জ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-২ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মুফতি শুয়াইব ইবরাহিম সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। সোমবার স্থানীয় এক মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় তিনি এলাকার দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও রক্তপাত বন্ধ করে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রতিশ্রুতি দেন।
উন্নয়নের ৮ দফা অঙ্গীকার মুফতি শুয়াইব ইবরাহিম তার ইশতেহারে আটটি প্রধান খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন:
শান্তি ও সম্প্রীতি: গোপালগঞ্জের দীর্ঘদিনের ‘ক্যান্সার’ হিসেবে পরিচিত গোষ্ঠীগত মারামারি ও সহিংসতা বন্ধে ‘সম্প্রীতি ফোরাম’ গঠন এবং ‘ভালোবাসার গোপালগঞ্জ-২’ চুক্তির প্রস্তাব করেন তিনি।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন এবং যুবকদের জন্য আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কৃষি ও স্বাস্থ্য: সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভেজালমুক্ত সার নিশ্চিতকরণ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা নিশ্চিতসহ স্বল্পমূল্যের ‘স্বাস্থ্য সেবা কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন।
সুশাসন: সরকারি কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘অনলাইন জনসেবা ডেস্ক’ স্থাপন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন।
নারী ও সংখ্যালঘু অধিকার: নারী শিক্ষার প্রসার, নিরাপদ যাতায়াত এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বলিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি দেন এই প্রার্থী।
সমাপনী বক্তব্যে মুফতি শুয়াইব বলেন, > “আমাদের লক্ষ্য আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ গোপালগঞ্জ গড়ে তোলা। দল-মত নির্বিশেষে আমরা সবাই মিলে এই জনপদকে শান্তি ও অগ্রগতির মডেলে রূপান্তর করবো, ইনশাআল্লাহ।”
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী এবং এলাকার সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থীর এই জনমুখী ইশতেহার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আশার সঞ্চার করেছে।
Leave a Reply