কাশিয়ানী প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার খাগড়াবাড়িয়া গ্রামের হতদরিদ্র ইলিয়াস মোল্লা ওরফে ইলি মোল্লার স্থায়ী বসতবাড়ি দখলের পায়তারার অভিযোগ উঠেছে আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে। এতে নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বাড়ির মালিক ইলি মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ও দুর্নীতিদমন কমিশন ও বিভিন্ন মিডিয়ায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খাগড়াবাড়িয়া গ্রামের হতদরিদ্র ভুক্তভোগী ইলিয়াস মোল্লার বাড়ির চারপাশে আরসিসি পিলারের দেয়াল তুলেছেন ঐ এলাকার আপেল মাহমুদ নামের এক ব্যবসায়ী। এই দেয়াল ও স্থাপনা নির্মাণে বালু ভরাটসহ প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে- এমন ধারণা এলাকাবাসীর। ভুক্তভোগী ইলিয়াস মোল্লা’র টিনের ঘরে যাতায়াতের জন্য কেবলমাত্র একটি সরু পথ রাখা হয়েছে, যা যে কোন সময় বন্ধ করা হতে পারে। ইলি মোল্লা এই প্রতিবেদককে আরো জানান, তার বসতভিটা বাজার মূল্যের চেয়ে কমদামে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে দখলে নেয়ার জন্য আপেল মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের উষ্কানি দিচ্ছেন। এখন ইলি মোল্লাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে আপেলের ছত্রছায়ায় গড়েওঠা কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসী রাসেল বাহিনী।
এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা আছে কাশিয়ানীসহ দেশের কয়েকটি থানায়। এই গ্রুপের অন্যতম সদস্য রাসেল কয়েকবার জেল খেটে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও অপকর্ম শুরু করেছে। এদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ঐ এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষ।
ভুমি খেকো কে এই আপেল মাহমুদ ?
এলাকাবাসি ও তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ২০০৭ সালের দিকে আপেল মাহমুদ রাজধানী ঢাকায় রাইফেলস স্কয়ারে ট্রলি বয় হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। ১/১১’র পট পরিবর্তনের পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী কিছু নেতা-মন্ত্রীর সান্নিধ্য পায় আপেল মাহমুদ। ফলে ক্ষমতাশালীদের প্রভাব ব্যবহার করে তদবির বাণিজ্য, এমনকি স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের সাথে যুক্ত ছিলেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠজনরা।
আওয়ামী লীগ সরকারের গত সাড়ে ১৫ বছরে আপেল মাহমুদ “আঙুল ফুলে কলাগাছ” হয়েছেন এমন মন্তব্য করেছেন খাগড়াবাড়িয়ার বেশ কয়েকজন। তাদের প্রশ্ন আগোরার ট্রলি বয় হিসেবে শূন্য হাতে জীবন শুরু করা আপেল এক যুগের মধ্যে প্রায় শত কোটির অর্থ-সম্পদের মালিক হলেন কি ভাবে ? কারণ আপেলের দৃশ্যমান তেমন কোন ব্যবসা নেই।
অনুসন্ধানে জানাযায়, মেজর এগ্রো প্রোডাক্টস এবং ইভার গ্রো লিমিটেড নামে অনলাইন ভিত্তিক দু’টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে আপেল মাহমুদ – এর মোট ৪২ লাখ শেয়ার আছে। কিন্ত এই দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পরিচালনায় অনেক অস্পষ্টতা পরিলতি হয়েছে। আপেল মাহমুদের আয়-ব্যয় বিবরণী এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের আয়কর ফাইল পর্যালোচনা করে দেখাযায়, প্রদর্শিত আর্থ-সম্পদ এবং অপ্রদর্শিত অর্থ-সম্পদের মধ্যে অনেক গড়মিল রয়েছে। আয়ের উৎস ও সম্পদের তথ্য গোপন করার প্রবণতাও পরিলতি হয়েছে।
যখন যারা রাষ্টীয় ক্ষমতায় থাকে তখন তাদের সাথে মিলেমিশে শুরু হয় আপেল – রাসেল বাহিনীর পথচলা। এদের কোন দল নেই, আওয়ামী লীগ সরকারের পট পরিবর্তনের সাথে সাথে নতুন ক্ষমতাসীন দলের সহায়তায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তারা।
এসব অভিযোগ সম্পর্কে আপেল মাহমুদের মতামত জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে এলো :
এদিকে, সাভারের আশুলিয়া থানায় আপেল মাহমুদ -এর বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ১২ জুন, ২০২৫ সালে দায়েরকৃত মামলার বিবরণে দেখা যায় – জুলাই হত্যা মামলা নম্বর : ৩৭/৩৯৭, এই মামলার ৪৬তম আসামি আপেল মাহমুদ।
Leave a Reply